বর্ষা মানেই সবুজে মোড়া প্রকৃতি, মাটির গন্ধ আর শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে। যদি এই বর্ষায় ভিড় এড়িয়ে কাছাকাছি কোনও শান্ত, অফবিট জায়গায় যেতে চান, তাহলে বাঁকুড়ার বাঁশপাহাড়ি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য।

জঙ্গলমহলের কোলে অবস্থিত ছোট্ট এই জনপদ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একেবারে স্বর্গ। চারপাশে শাল, মহুয়া আর সবুজ জঙ্গলের বিস্তার, সঙ্গে নিরিবিলি পরিবেশ। তাই অনেকেই ভালোবেসে একে ‘মিনি উটি’ বলেও ডাকেন। বর্ষার সময়ে বৃষ্টিভেজা বন, কুয়াশা আর পাখির ডাক মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে বাঁশপাহাড়ি আপনাকে নিরাশ করবে না।

কী ভাবে যাবেন?
বাঁশপাহাড়ি পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রথমে ট্রেনে বা সড়কপথে বিষ্ণুপুর পৌঁছে যাওয়া। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সিমলাপাল ও খাতরা হয়ে সহজেই বাঁশপাহাড়ি পৌঁছানো যায়। নিজের গাড়ি থাকলে একই রুট ধরে যাত্রা করলে রাস্তার দু'পাশের সবুজ প্রকৃতিও উপভোগ করতে পারবেন। বর্ষাকালে রাস্তা আরও মনোরম হয়ে ওঠে, তাই সফরের আনন্দও বেড়ে যায়।

কোথায় থাকবেন?
বাঁশপাহাড়িতে বড় কোনও সরকারি হোটেল বা বিলাসবহুল রিসোর্ট নেই। এখানকার আসল আকর্ষণ স্থানীয় হোমস্টেগুলি, যেখানে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থেকে থাকার সুযোগ মিলবে।
সবচেয়ে পরিচিত হোমস্টেগুলির মধ্যে পাত্র ভিলা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সাশ্রয়ী খরচে আরামদায়ক থাকার পাশাপাশি এখানকার পরিবেশে পুরনো জমিদারবাড়ির আবহও অনুভব করা যায়। এছাড়া আরও কয়েকটি ছোট, পরিচ্ছন্ন হোমস্টেও রয়েছে, যেখানে স্থানীয় আতিথেয়তা সফরকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

চাইলে কাছাকাছি ঝিলিমিলির রিমিল ইকো ট্যুরিজম বা খাতরার বারডি পাহাড় ইকো রিসোর্টেও থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন। সেখান থেকে সহজেই বাঁশপাহাড়ি ঘুরে দেখা সম্ভব।

এই বর্ষায় যদি নতুন কোনও জায়গার খোঁজে থাকেন, তাহলে তালিকায় রাখতেই পারেন বাঁশপাহাড়ির নাম। সবুজ জঙ্গল, শান্ত পরিবেশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে এই ছোট্ট জনপদ হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের সেরা ঠিকানা।