ভারতের মানচিত্রে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ যেন এক নীল চাদরে মোড়া স্বর্গ। প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর এই দ্বীপপুঞ্জ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। নিচে মানচিত্রে চিহ্নিত বিশেষ স্থানগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:
​প্রধান পর্যটন আকর্ষণসমূহ
১. ​সেলুলার জেল, পোর্ট ব্লেয়ার: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষী হলো এই জেল। পোর্ট ব্লেয়ারে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ইমারতটি এখন একটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এখানে সন্ধ্যায় আয়োজিত 'লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো' পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
২. ​রাধানগর সৈকত, হ্যাভলক: হ্যাভলক দ্বীপের এই সৈকতটি এশিয়ার অন্যতম সেরা সৈকত হিসেবে পরিচিত। এর সাদা বালু আর স্বচ্ছ নীল জলরাশি পর্যটকদের এক প্রশান্তিময় অভিজ্ঞতা দেয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
৩. ​রস দ্বীপের ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ: ব্রিটিশ শাসনামলের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এই রস দ্বীপ (Ross Island)। বর্তমানে এখানে পুরনো গির্জা, হাসপাতাল এবং বসতবাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। জঙ্গলের ভেতর হরিণ এবং ময়ূরের অবাধ বিচরণ এই স্থানটিকে আরও মায়াবী করে তোলে।
৪. ​বারাতাং-এর চুনাপাথরের গুহা: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্য বারাতাং একটি দারুণ জায়গা। ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ভেতর দিয়ে নৌকায় করে এই চুনাপাথরের প্রাকৃতিক গুহা দেখতে যাওয়া এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
৫. ​বারেন দ্বীপের আগ্নেয়গিরি: এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। দূর থেকে জাহাজ বা হেলিকপ্টারে করে এই ধোঁয়া ওঠা পাহাড়টি দেখা পর্যটকদের কাছে একটি বড় আকর্ষণ।
৬. ​সমুদ্র-গাই (ডুগং) সংরক্ষণ এলাকা: আন্দামানের রাষ্ট্রীয় পশু হলো ডুগং বা সমুদ্র-গাই। মানচিত্রে উল্লিখিত এই সংরক্ষিত এলাকাটি বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীদের রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়।
​পর্যটকদের জন্য কিছু টিপস:
​মানচিত্র অনুযায়ী আপনি দক্ষিণ আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে উত্তর দিকে বা নিচের দিকে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কিছু কিছু এলাকা সংরক্ষিত, তাই সেখানে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে নেওয়া ভালো।
​আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কেবল ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি প্রকৃতির রহস্য আর ইতিহাসের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আপনার পরবর্তী ছুটির তালিকায় এই নীল জলরাশির দেশটিকে রাখতেই পারেন!