কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ২০২৬ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বেশ জোরকদমে। এ বছর যাত্রার সময় ধরা হয়েছে জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসের মধ্যেই সবকিছু সম্পন্ন করার পরিকল্পনা। যারা যেতে চান, তাঁদের জন্য আবেদন করার শেষ সুযোগ ১৯ মে পর্যন্ত। তবে আবেদন করলেই যে যাওয়া নিশ্চিত, তা নয়; অংশগ্রহণকারীদের বেছে নেওয়া হবে সম্পূর্ণ কম্পিউটার নির্ভর লটারির মাধ্যমে, যাতে প্রক্রিয়াটা নিরপেক্ষ থাকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারে মোট ২০টি দলে যাত্রা হবে, প্রতিটি দলে থাকবেন ৫০ জন করে তীর্থযাত্রী। তার মধ্যে কিছু দল উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে যাবে, আর বাকিরা সিকিমের নাথু লা গিরিপথ ধরে তিব্বতে প্রবেশ করবেন। সব মিলিয়ে দু’টি আলাদা রুট—কিন্তু অভিজ্ঞতা দুই পথেই সমান স্মরণীয়।
আবেদন প্রক্রিয়াটাও এখন অনেকটাই সহজ করা হয়েছে। পুরোটা অনলাইনে করা যাবে, আর আবেদনকারীরা চাইলে সরাসরি পোর্টালের মাধ্যমেই প্রশ্ন বা মতামত জানাতে পারবেন। মূল উদ্দেশ্য একটাই—পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ আর ঝামেলাহীন করা।
কৈলাস মানস সরোবরের গুরুত্ব নতুন করে বলার কিছু নেই। হিন্দুদের কাছে এটি ভগবান শিবের আবাস হিসেবে পবিত্রতম স্থানগুলোর একটি। পাশাপাশি বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই অঞ্চল গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। তাই প্রতি বছরই বহু মানুষ এই কঠিন কিন্তু আকর্ষণীয় যাত্রায় অংশ নিতে চান।
যাত্রাপথের কথায় আসা যাক। লিপুলেখ রুটটা উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যায়—ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি রাস্তা, আর এক ধরনের নির্জন সৌন্দর্য এই পথের বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে নাথু লা রুটে সিকিমের মনোরম পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করতে করতে এগোনো যায়। দুই পথেই আলাদা আকর্ষণ আছে, আর দু’দিকেই সমান সংখ্যক দল যাবে।
তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—এটা সহজ ভ্রমণ নয়। প্রায় ২৩ থেকে ২৫ দিনের এই যাত্রায় উচ্চতায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। তাই মাঝপথে, বিশেষ করে দিল্লি এবং গুঞ্জি বা শেরথাংয়ের মতো ক্যাম্পে, কড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। শারীরিকভাবে ফিট না থাকলে শেষ পর্যন্ত যাত্রা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, এটা শুধু একটা ভ্রমণ নয়—মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে পরীক্ষা করারও এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। যারা যেতে চান, তাঁদের প্রস্তুতিটা তাই একটু বেশি মন দিয়ে নেওয়াই ভালো।
কীভাবে আবেদন করবেন :-
আগ্রহী পুণ্যার্থীদের সম্পূর্ণ অনলাইনে https://kmy.gov.in/ পোর্টালে আবেদন করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে ছবি ও পাসপোর্টের স্ক্যান কপি। আবেদন করতে এই ধাপগুলি অনুসরণ করুন।
১) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিজের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
২) পাসপোর্টের পিডিএফ (৫০০ কেবি) এবং নিজের জেপিজি ফর্ম্যাটের ছবি (৩০০ কেবি) আপ্লোড করুন।
৩) নিজের পছন্দ অনুযায়ী যাত্রার রুট ও সময় বেছে নিন।
৪) একই ব্যাচে ভ্রমণ করতে চাইলে একটি অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ দুটি আবেদন জমা দেওয়া যাবে।







