রাজস্থানের কুম্ভলগড় দুর্গ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে—কারণ এর প্রাচীরকে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাচীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, চীনের মহাপ্রাচীরের ঠিক পরেই। প্রায় ৩৬ কিলোমিটার জুড়ে টানা এই দেয়াল শুধু দৈর্ঘ্যের জন্য নয়, এর গঠন আর অবস্থানের জন্যও আলাদা করে চোখে পড়ে।

আরাবল্লী পর্বতমালার ভেতরে, উদয়পুর থেকে কিছুটা দূরে এই দুর্গটা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল, যেন বাইরে থেকে আক্রমণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। পাথুরে পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর আঁকাবাঁকা পথ—সব মিলিয়ে এক প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বলয়। এই কাজের পেছনে ছিলেন মেওয়ারের শাসক রানা কুম্ভ, আর নকশা করেছিলেন সেই সময়ের খ্যাতনামা স্থপতি মণ্ডন।

প্রাচীরের প্রস্থ এতটাই বেশি—প্রায় ১৫ থেকে ২৫ ফুট—যে লোকমুখে শোনা যায়, একসাথে কয়েকটা ঘোড়া দৌড়াতে পারত এর ওপর দিয়ে। দুর্গে ঢোকার জন্য আছে সাতটি বিশাল ফটক, আর চারদিকে নজর রাখার জন্য টাওয়ার, প্রহরা ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে এক সুপরিকল্পিত প্রতিরক্ষা কাঠামো।

তবে কুম্ভলগড় শুধু যুদ্ধের জায়গা ছিল না। এর ভেতরে ছিল একেবারে পূর্ণাঙ্গ বসতি। প্রায় ৩৬০টির মতো মন্দির—যার মধ্যে জৈন আর হিন্দু উভয়ই আছে—এখনও সেই ইতিহাসের সাক্ষী। সবচেয়ে উঁচুতে থাকা বাদল মহল থেকে চারপাশের দৃশ্য দেখলে বোঝা যায়, কেন এই জায়গাটা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আর একটা বড় কারণেও এই দুর্গ ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে—এখানেই জন্ম হয়েছিল মহারানা প্রতাপ-এর, যিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ের জন্য আজও স্মরণীয়।