পাহাড় যেন তাঁদের কাছে আর পাঁচজনের মতো চ্যালেঞ্জ নয়, বরং বহুদিনের সঙ্গী। সেই সম্পর্কেই আবার নতুন করে ইতিহাস লিখলেন কামি রিতা শেরপা এবং লাকপা শেরপা।
১৭ মে ২০২৬, রবিবার সকাল। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে দাঁড়িয়ে নিজেরই গড়া রেকর্ড ভেঙে দিলেন ৫৬ বছরের কামি রিতা। এটাই তাঁর ৩২তম সফল আরোহণ। ভাবা যায়! যেখানে একবার উঠতেই অনেকের জীবন কেটে যায়, সেখানে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যেন বারবার একই শিখরে ফিরে যাচ্ছেন এক অদম্য টানে। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার এভারেস্ট জয়ের পর থেকে এই যাত্রা থামেনি একবারও। অভিজ্ঞতা, ধৈর্য আর অসম্ভব মানসিক শক্তিই তাঁকে আলাদা করে চেনায়।
অন্যদিকে, লাকপা শেরপাও কম যান না। ৪৮ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি ১১তম বার এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে আবারও প্রমাণ করলেন নিজের ক্ষমতা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বার এভারেস্ট জয়ী নারী হিসেবে তিনি এখন একক উচ্চতায়। ছোট্ট এক গ্রাম থেকে উঠে আসা লাকপার গল্পটা আরও অনুপ্রেরণার। কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই, জীবন থেকেই শিখেছেন পাহাড়কে পড়তে। ২০০০ সালে প্রথমবার শিখরে ওঠার পর যেন আর পিছু ফিরে তাকাননি।
এই দুই পর্বতারোহীর গল্প শুধু রেকর্ডের নয়। এটা এক ধরনের জেদ, এক ধরনের ভালোবাসা—পাহাড়ের প্রতি, নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতি। তাঁদের সাফল্য নতুন প্রজন্মকে শুধু স্বপ্ন দেখতে নয়, সেই স্বপ্নের পিছনে নিরলস পরিশ্রম করার সাহসও।







